Ayub Bachchu

Ayub_Bachchu_12018101810453320181018105328

” সুখের পৃথিবী , সুখের অভিনয় যতই আড়ালে রাখো , আসলে কেউ সুখি নয় ” ” সেই তুমি ক্যানো এতো অচেনা হলে , সেই আমি ক্যানো তোমাকে দুঃখ দিলেম ! ” 

” হাসতে দেখো গাইতে দেখো ! অনেক কথায় মুখর আমায় দেখো , দেখো না কেউ হাসির শেষে নিরবতা ! “

” এখন অনেক রাত , খোলা আকাশের নিচে। জীবনের অনেক আয়োজন , আমায় ডেকেছে ! তাই আমি বসে আছি……..দরজার ওপাশে ! ” 

” ওই তারা ভরা রাতে , আমি পারিনি বুঝাতে ! ” ” আর বেশী কাদালে উড়াল দেবো আকাশে “

” কত রাত আমি কেদেছি ! বুকের গভীরে কষ্ট নিয়ে ! শুন্যতায় ডুবে গেছি আমি ! আমাকে তুমি ফিরিয়ে নাও । তুমি ক্যানো বুঝো না তোমাকে ছাড়া আমি অসহায় ” 

এমন অসংখ্য ভালোবাসার লাইন দিয়ে বাংলাদেশের মিউজিক জগতে নতুন ট্রেন্ড তৈরী করেছিলেন এই মহান ব্যক্তিটি । এই লাইনগুলো তো শুধু গানের লাইন ছিল না , ছিল কোটি মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ! ছিল কোটি মানুষের ভালোবাসার বর্ণনা ! 

বলছি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর কথা !

১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগমের ঘরে তার জন্ম ! তিন ভাইবোনের মাঝে তিনিই সবার বড় । পরিবারের সকলে ধার্মিক মানসিকতার হওয়ায় কেউই সংগীত কে পেশা হিসেবে বেছে নেয়নি । তবে তারঁ বাবার হাত ধরেই সংগীত অঙনে তার প্রবেশ । ছেলের ১১ তম জন্মদিনে ছেলেকে গিটার উপহার দেন বাবা ইশহাক চৌধুরী । সেই থেকেই শুরু ধীরে ধীরে তার পথচলা । তৎকালীন গিটারিস্ট জিমি হেন্ড্রিক এর ব্যাপক বড় ফ্যান ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু । চট্টগ্রামে বসবাসরত জ্যাকব ডায়াজ নামক এক ব্যাক্তির কাছে আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের হাতেখড়ি ! বন্ধুর থেকে ইলেক্ট্রিক গিটার ধার নিয়েছিলেন একবার তিনি , তারঁ গিটার বাজানোর দক্ষতা দেখে স্বয়ং সেই বন্ধু তাকে তার গিটারটি উপহার হিসেবে দিয়ে দেন । কলেজ পড়ুয়া অবস্থায় সহপাঠীদের নিয়ে গোল্ডেন বয়েজ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন যার পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় আগলি বয়েজ নামে। এই ব্যান্ডে তার সাথী ছিলেন তার বন্ধু কুমার বিশ্বজিৎ । তারা দুজনে পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সোলস ব্যান্ডে জয়েন করলে আগলি বয়েজ ব্যান্ড টি ভেঙে যায় । সোলস এর হয়ে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন ! ১৯৮৬ সালে ঢাকায় তার বন্ধুর মাধ্যমে চন্দনার সাথে পরিচয় হয় তার । প্রথম দেখায় তারা দুজন দুজন কে পছন্দ করে বসে । পরবর্তীতে চন্দনার বাসায় এই কথা জানাজানি হয়ে গেলে তাদের দেখা সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যায় । চন্দনার কথা ভেবেই তিনি তখন রচনা করেন ‘ ফেরারী মন ‘ গানটি ! সোলসের যখন চতুর্থ আ্যলবাম প্রকাশিত হয় তখন তিনি চন্দনার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠান এবং চন্দনার পরিবার তাতে সম্মতি প্রদান করেন । এরই মাঝে ১৯৯০ সালে তিনি এল আর বি ( লিটল রিভার ব্যান্ড ) গঠন করেন ! পরবর্তীতে এই ব্যান্ডের নামকরণ করা হয় লাভ রান্স ব্লাইন্ড । ১৯৯১ সালের পরিবারের সম্মতিতে চন্দনা ও আইয়ুব বাচ্চুর বিয়ে সম্পন্ন হয় ।

 

এল আর বি এর মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চু পৌছে যান জনপ্রিয়তার শিখরে । ১৯৯২ সালে একই সাথে তারা প্রকাশ করেন এল আর বি – ১ ও এল আর বি – ২ নামে ডাবল আ্যলবাম। তৃতীয় আ্যলবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে । এছাড়া ‘ চলো বদলে যাই ‘ গানটি তাদের কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে যেতে সাহায্য করে । আইয়ুব বাচ্চু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট টপ টেন্স এর আয়োজিত কম্পিটিশনে সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন । আইয়ুব বাচ্চুর দুই সন্তান ফাইরুজ ও আহনাফ তাজওয়ার । সুখের এই পরিবারে সবচেয়ে বড় আঘাত সহ্য করে ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবর ! হঠাৎ কার্ডিয়াক পেইনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী৷